নানা কারণে সম্রাট আকবরের ধর্মমত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত দ্বীন-ই-ইলাহি মতবাদের গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ জন। তিনি ধর্ম প্রবর্তন করলেও তা প্রসারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাছাড়া ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এর তীব্র বিরোধিতা করলে তা প্রসার লাভ করতে পারেনি। সম্রাট আকবর প্রবর্তিত 'দ্বীন-ই-ইলাহি' ধর্মমত জনগণের মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। আবুল ফজলের মতে, এর সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ জন। হিন্দুদের মধ্যে একমাত্র রাজা বীরবল ব্যতীত অন্য কেউই এ ধর্মে দীক্ষিত হননি। এর প্রধান অনুসারী ছিলেন শেখ মোবারক, আবুল ফজল, ফৈজি, আজিজ কোকা প্রমুখ। স্বয়ং সম্রাট এ ধর্ম গ্রহণে কাউকে বাধ্য করেননি। ফলে তার মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহির পরিসমাপ্তি ঘটে। এ মতবাদে আজান, নামাজ, হজ, যাকাত প্রদান, দাড়ি রাখা, কুরআন ও হাদিস শেখার অবকাশ ছিল না। ফলে অনেকের ধারণা "আকবর তার পূর্বপুরুষের এবং প্রথম যৌবনের ধর্মের প্রতি তিক্ত বিরোধিতা প্রদর্শন করে প্রকৃতপক্ষে ইসলামের অবমাননা করেন।” ডুবেরিক এবং বন্টেলহো নামক পর্যটকদ্বয় বলেন, "তর্ক-বিতর্ক সত্ত্বেও আকবর পূর্বের মতোই মূর ছিলেন।" ড. স্মিথ, বাদউনি ও জেসুইটদের মতে, "বস্তুত দ্বীন-ই-ইলাহি কোনো ধর্মীয় অনুশাসন নয়, এটি কেবল রাজনীতিকদের অনুশাসন মাত্র।" তাই সম্রাট আকবরের জীবিতকালে কয়েকজন রাজানুগ্রাহী ব্যক্তি দ্বীন-ই-ইলাহি গ্রহণ করলেও তার মৃত্যুর সাথে সাথে উক্ত ধর্মমতের পরিসমাপ্তি ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট আকবর প্রবর্তিত দ্বীন-ই-ইলাহি ধর্মমত ব্যর্থ হয়ে তার মৃত্যুর সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়। তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।