তার শাসনকাল তথা শেরশাহের শাসনকাল ভারতের অন্যান্য শাসকদের জন্য জনকল্যাণ ও সুশাসনের আদর্শ স্থাপন করে করেছিল।শেরশাহ একজন প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন। তিনি মাত্র ৫ বছর শাসন করলেও ইতিহাসে তার শাসনকাল স্মরণীয় হয়ে আছে। শেরশাহ রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সাম্রাজ্যের ভূমিকে আবাদি ও অনাবাদি এ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করেন। আবাদি ভূমিকে আবার উত্তম, মধ্যম ও নিম্ন এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এ তিন শ্রেণির ভূমির উৎপাদনের তারতম্য থাকায় তিন ধরনের রাজস্ব ধার্য করা হয়। যাতে কৃষকেরা ফসল দিয়ে অথবা নগদ অর্থ দিয়ে ধার্যকৃত রাজস্ব দিতে পারে। শেরশাহ রাজস্বব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কবুলিয়ত ও পাট্টা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। কৃষকদের মধ্যে ধার্যকৃত আবাদি জমিতে অধিকার স্বীকার করে সরকার কৃষকদের পাট্টা দিত। আবার সরকার কর্তৃক আরোপিত শর্তগুলো মনে চলার জন্য কৃষকেরা সরকারকে কবুলিয়ত দিত। শেরশাহ একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকও ছিলেন। তার বিচারালয়ে আইনের চোখে সকলেই সমান ছিল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জনহিতকর কার্যাবলির জন্য শেরশাহ বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, স্থাপন করেছিলেন। ছাত্রদের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনি সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড নির্মাণ করেন। শরশাহ কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উৎস হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। প্রশাসনকে সুষ্ঠুরূপে বিন্যস্ত করার জন্য এবং তা সম্পূর্ণরূপে স্বীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ৪টি দপ্তর চালু করেন। মন্ত্রী পর্যায়ের একজন উচ্চ রাজকর্মচারী এসব দপ্তর তদারক করতেন। তিনি তার রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে বিভক্ত করেন। প্রত্যেকটি সরকারকে আবার কয়েকটি 'পরগনায়' ভাগ করেন।উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, শেরশাহের শাসনব্যবস্থা ও জনহিতকর শাসন ভারতের অন্যান্য শাসকদের আদর্শ তৈরি করে।