উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজস্ব সংস্কার পদ্ধতির সাথে আমার পঠিত আফগান শাসক শেরশাহের ভূমি রাজস্ব নীতির মিল রয়েছে।ভূমি রাজস্বব্যবস্থাকে ন্যায়ানুগ করার উদ্দেশ্যে শেরশাহ সযত্নে জমি জরিপের ব্যবস্থা করেন। তার আগে এ রীতি প্রচলিত না থাকায়, অনেক ক্ষেত্রে রায়ত অবিচারের সম্মুখীন হতেন। কাজেই শেরশাহ ভূমি রাজস্ব নির্ধারণের পূর্বশর্ত হিসেবে প্রথমে সাম্রাজ্যের চাষ উপযোগী সমস্ত ভূমি পরিমাপের ব্যবস্থা করেন। ফসল বপনের সময় ভূমি জরিপ করা হতো এবং ফসল কাটার সময় শস্যের পরিমাপ করে উৎপাদিত শস্যের গড়পড়তা তিন ভাগের এক ভাগ রাজস্ব ধার্য করা হতো। অবশ্য মূলতানসহ আরও দু একটি অঞ্চল নির্ধারিত রাজস্বের পরিমাণ ছিল উৎপন্ন ফসলের চার ভাগের এক ভাগ। রাজস্ব নগদ অর্থ ও শস্যের মাধ্যমে পরিশোধ করা যেত। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ছিল চৌধুরী, মুকাদ্দম, আমিন, কানুনগো এবং পাটোয়ারী প্রভৃতি কর্মচারীর ওপর অবশ্য কৃষক ইচ্ছা করলে সরাসরি রাজকোষে রাজস্ব জমা দিতে পারত। শেরশাহের রাজকোষ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক এ দু'ভাগে বিভক্ত ছিল। ভূমি রাজস্ব, খুমস, জিজিয়া, বাণিজ্য শুল্ক, প্রান্তীয় শুল্ক, লবণ কর, টাকশাল থেকে আয়, উত্তরাধিকারবিহীন সম্পত্তি এবং উপহার ও উপঢৌকন ইত্যাদি ছিল কেন্দ্রীয় রাজকোষের প্রধান আয়ের উৎস। অন্যদিকে, প্রাদেশিক আয়ের উৎস ছিল পথ কর, জল কর, যানবাহন ও বাস্তুভিটার ওপর ধার্য কর এবং গৃহপালিত পশুর ওপর করসহ নানা স্থানীয় শুল্ক ও কর। শেরশাহ প্রজাদের সাথে সরকারের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জমিদারি প্রথা লোপ এবং রায়তওয়ারি প্রথা 'প্রবর্তন করেন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় 'কবুলিয়ত' ও 'পাট্টা' প্রথা প্রচলন তার অনবদ্য উদ্ভাবন। সুষ্ঠুভাবে দক্ষতার সাথে সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য শেরশাহ্ তার গোটা সাম্রাজ্যকে মোট ৪৭টি স্নকার ও ১,১৩,০০০টি পরগনায় ভাগ করেন।