"উদ্দীপকের ধর্মমত এখনও টিকে থাকলেও উক্ত শাসকের ধর্মমতটি তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়।" শীর্ষক উক্তিটি ঐতিহাসিকভাবে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ও বাস্তবতায় এক জ্বলন্ত সত্য।উদ্দীপকের বাহাউল্লার সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্ম প্রবর্তনের ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ঘোর সাম্রাজ্যবাদী মুঘল সম্রাট আকবরের রাজনৈতিক দর্শনের অনুষঙ্গী ছিল তার ধর্মচিন্তা। যার ফসল সর্বধর্ম সমন্বয়বাদী ধর্ম দ্বীন-ই-ইলাহি। উদ্দীপকের প্রবর্তিত বাহাই ধর্ম এবং তার অনুসারীরা বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বসবাস করছে। অথচ সম্রাট আকবর প্রবর্তিত 'দ্বীন-ই-ইলাহি' ধর্মমত জনগণের মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। আবুল ফজলের মতে, এর সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ জন। হিন্দুদের মধ্যে একমাত্র রাজা, বীরবল ব্যতীত অন্য কেউই এ ধর্মে দীক্ষিত হননি। এর প্রধান অনুসারী ছিলেন শেখ মোবারক, আবুল ফজল, ফৈজি, আজিজ কোকা প্রমুখ। স্বয়ং সম্রাটও এ ধর্ম গ্রহণে কাউকে বাধ্য করেননি। ফলে তার মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহির পরিসমাপ্তি ঘটে। অনেকের ধারণা 'আকবর তার পূর্বপুরুষের এবং প্রথম যৌবনের ধর্মের প্রতি তিক্ত বিরোধিতা প্রদর্শন করে প্রকৃতপক্ষে ইসলামের অবমাননা করেন।" ডুবেরিক এবং বন্টেলহো নামক পর্যটকদ্বয় বলেন, "তর্ক-বিতর্ক সত্ত্বেও আকবর পূর্বের মতোই মূর (মুসলমান) ছিলেন।" ড. স্মিথ, বদাউনি ও জেসুইটদের মতে, "বস্তুত দ্বীন-ই-ইলাহি কোনো ধর্মীয় অনুশাসন নয়, এটি কেবল রাজনীতিকদের অনুশাসন মাত্র।" তাই সম্রাট আকবরের জীবিতকালে কয়েকজন রাজানুগ্রাহী ব্যক্তি দ্বীন-ই-ইলাহি গ্রহণ করলেও তার মৃত্যুর সাথে সাথে উক্ত ধর্মমতের পরিসমাপ্তি ঘটে।পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্ম বাহাই টিকে থাকলেও আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহি তার মৃত্যুর সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়।