নেপোলিয়নের স্পেন জয় এবং আওরঙ্গজেবের উক্ত অঞ্চল জয়ের পরিণতি একই সূত্রে গাঁথা। মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।দাক্ষিণাত্য সম্রাটের দেহের ও সাম্রাজ্যের সমাধিভূমি ছিল। আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য জয় সম্পর্কে স্যার যদুনাথ সরকার বলেন, আপাতদৃষ্টিতে সকল কিছু লাভ করলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে সকল কিছুই হারালেন। এ সময় হতেই তার পতনের সূচনা হয়। তার জীবনের মর্মান্তিক এবং অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটে।দাক্ষিণাত্য বিজয়ের মাধ্যমে ১৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট কাবুল হতে চট্টগ্রাম এবং কাশ্মির হতে কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিশাল ও বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নরপতির মর্যাদা লাভ করেন। এতদসত্ত্বেও আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দাক্ষিণাত্য জয়ের ফলে সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে কেন্দ্রীয় শাসন্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। দাক্ষিণাত্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হওয়ার ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতেও সংকট দেখা দেয়। উত্তর ভারতে সম্রাটের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে সেখানে সম্রাটের প্রভাব হ্রাস পায়। ফলে আফগান, শিখ, জাঠ, মেওয়াটি ও রাজপুতরা চারদিকে মাথা তুলে দাঁড়ায়। এভাবে সম্রাটের জীবীতাবস্থায় মুঘল সাম্রাজ্যের বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয় এবং এ অবস্থার বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মতো ক্ষমতা সম্রাটের ছিল না। যেমন নেপোলিয়ন বলতেন, স্পেনীয় ক্ষত আমার ধ্বংস সাধন করেছিল। ঠিক তেমনি দাক্ষিণাত্য ক্ষত আওরঙ্গজেবের সর্বনাশ ডেকে এনেছিল। দাক্ষিণাত্য নীতির ব্যর্থতার ফলে দুশ্চিন্তায় সম্রাটের মন ও শরীর ভেঙে পড়ে এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দের ৩ মার্চ আওরঙ্গজেব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।অতএব, দাক্ষিণাত্য জয় আওরঙ্গজেবের জন্য সুখকর ছিল না বরং এ জয় ছিল নেপোলিয়রে স্পেন জয়ের মতোই তিক্ত ও বিষাক্ত। তাই দুজনের উক্ত অঞ্চল বিজয় একই সুত্রে গাঁথা।