উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের মুঘল শাসক সম্রাট আকবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের সম্রাট শাহ জালাল তার বংশের স্থায়িত্ব ও সকল মানুষের মধ্যে ঐক্য স্থাপনের যেমন একটি ধর্মমত প্রচলন করে সকলকে একই, পতাকাতলে আনতে চেয়েছিলেন তদ্রুপ মুঘল সম্রাট আকবরও 'দ্বীন-ই-ইলাহি' নামক নতুন ধর্মমত প্রচলন করে সকলকে এক ধর্মের ছায়ায় আনতে চেয়েছিলেন। মুঘল সম্রাট আকবর পারিপার্শ্বিক প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে ১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে 'দ্বীন-ই-ইলাহি' নামক একটি নতুন ধর্মমতের প্রচলন করেন। সম্রাট আকবর সর্বপ্রথম রাষ্ট্রনীতিকে ইসলাম তথা উলেমাদের প্রভাবমুক্ত করে হিন্দু-মুসলমান মিলনের ভিত্তিতে ভারতীয় জাতীয়তা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। মুঘল সম্রাট আকবর চেয়েছিলেন, সকল ধর্ম মিলে একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা এবং ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীকে একটি ধর্মীয় ছাতার নিচে সমাবেশ করা। ধর্মে ধর্মে পারস্পরিক বিদ্বেষ, হানাহানি এবং বিপরীত চিন্তা আকবরকে ব্যথিত করে তোলে। তিনি এ থেকে উত্তরণের জন্য সব. ধর্মকে একসূত্রে গাঁথার উপায় খুঁজতে থাকে। এ লক্ষ্যে ধর্মক্ষেত্রে উলেমাদের একাধিপত্য খর্ব করার জন্য সম্রাট ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে একটি ডিক্রি জারি করেন। সম্রাট আকবর 'দ্বীন-ই-ইলাহি' প্রবর্তন করলেও তিনি এ ধর্মমত গ্রহণ করতে কাউকে বাধ্য করেননি। ঐতিহাসিক আবুল ফজলের মতে, ধর্মের অনুসারী ছিল মাত্র ১৮ জন। তাই আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে এ ধর্মমত বিলুপ্ত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সম্রাট শাহ জালালের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মমৃত প্রবর্তনের মিল পাওয়া যায়।