মুঘল বংশের উক্ত শাসক তথা সম্রাট শাহজাহান আজ-জোহরা প্রাসাদের অনুরূপ তাজমহল নির্মাণ করে ইতিহাস স্মরণীয় হয়ে আছে। মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
বিশ্বের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থাপত্যের মধ্যে সম্রাট শাহজাহান নির্মিত তাজমহল সর্বশীর্ষে। এটি আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেন। এটি মধ্যযুগের পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি শুধুমাত্র স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়কই নয়, যুগে যুগে দাম্পত্য প্রেমের অবিস্মরণীয় প্রতীকরূপে সমাদৃত হয়ে আসছে। ১৬৩২ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। টেডার্নিয়ারের মতে, ২০ হাজার কারিগর ২২ বছর পরিশ্রম করে এবং তৎকালীন ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। এর স্থপতি ছিলেন ওস্তাদ ঈশা। এর স্থাপত্যিক উপকরণের সবিন্যাস, অলংকারণের সূক্ষ্মতা ও নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। একে 'এক বিন্দু অশ্রু' ও মার্বেলের স্বপ্ন' বলে অভিহিত করা হয়।
প্রেমের অমর নিদর্শন হলো তাজমহল। প্রিয়তমা পত্নীর প্রেমের অমর নিদর্শনরূপে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ এ স্মৃতিসৌধটি সম্পর্কে কবিগুরু বরীন্দ্রনাথ বলেন
"এক বিন্দু নয়নের জলকালের কলোপতলে শুভ্র সমুজ্জ্বলএ তাজমহল।"
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রেমের অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর এ তাজমহল। প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্যই সম্রাট শাহজাহান এ বিখ্যাত স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করে জগৎজোড়া খ্যাতি অর্জন করে।