সাম্রাট আওরঙ্গজেব ক্ষমতা গ্রহণ করে দাক্ষিণাত্য বিজয়ের জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করেন।উদ্দীপকে দেখা যায়, সিকান্দর সাহেব শাসনক্ষমতা লাভের পর তার সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে চরম বিদ্রোহ দেখা দেয়। এ বিদ্রোহ দমনে তিনি কতিপয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রথমেই তিনি বিদ্রোহ দমনে উল্লিখিত অঞ্চলের জন্য একটি 'বিশেষ নীতি' প্রবর্তন করেন। অধিক অর্থ বরাদ্দ, সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী মোতায়েন, যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ ও স্বয়ং যুদ্ধে নেতৃত্বে প্রদান প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি উক্ত বিদ্রোহ দমনে আংশিক সাফল্য লাভ করেন। যা সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দক্ষিণাত্য নীতি সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। উত্তর ভারতের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করে আওরঙ্গজেব দক্ষিণ ভারতের দিকে নজর দেন। ১৬৮১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত দাক্ষিণাত্যের মারাঠা দমনের প্রচেষ্টা এবং বিজাপুর ও গোলকুন্ডা অধিকার করেই জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। তার সময় ভারতীয় মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি এত বেশি হয়েছিল যে, এ বিশাল সাম্রাজ্যকে সুষ্ঠুভাবে শাসন করা সম্ভব ছিল না। আর দাক্ষিণাত্য বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে বিস্তৃত সাম্রাজ্য। প্রতিষ্ঠিত হয় তা পরিচালনা ও সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। উপরন্তু এর ফলে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। অতএব, উদ্দীপকের সাথে আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির মিল পাওয়া যায়।