ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সম্রাট আকবর এবং হযরত উমর (রা) একে অপরের সার্থক প্রতিচ্ছবি- মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।সম্রাট আকবরের বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পরমতসহিষ্ণুতা ও মানবতাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। প্রত্যেক নাগরিক যেন ন্যায়বিচার পায় এবং আইনের চোখে সমান হিসেবে পরিগণিত হয়, সে বিষয়ে সম্রাট আকবর কড়া নজর দিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, "যদি আমি নিজেও কোনো অন্যায় কাজ করি, তাহলে নিজেকে শাস্তি দিতে দ্বিধা করব না।” সম্রাটের পরেই কাজি-উল-কুজ্জাত ছিলেন প্রশাসনিক প্রধান। তিনি কেন্দ্রের বিচার প্রশাসন পরিচালনা ও প্রাদেশিক বিচার প্রশাসন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ করতেন। তিনি প্রতিটি প্রদেশে কাজি নিয়োগ দিতেন। তিনি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করতেন। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিচারও তিনি পরিচালনা করার অধিকার সংরক্ষণ করতেন। কাজি-উল-কুজ্জাতকে বিচারকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মুফতি, 'কাজি ও মীর আদল নিয়োগ দেওয়া হতো। মুফতি ইসলামি আইনের ব্যাখ্যা করতেন, প্রয়োজনে ফতুয়া দিতেন। কাজি মুফতির দেওয়া ইসলামি আইনের ব্যাখ্যা অনুসারে. নিজ কোর্টে মামলার শুনানি গ্রহণ করতেন। মীর আদল কাজির শুনানিকৃত মামলার রায় ঘোষণা করতেন। সদর-উস-সুদূর বিচার প্রশাসনকে নানাভাবে সহযোগিতা করত। প্রদেশের বিচার-প্রশাসনিক কাঠামো ছিল কেন্দ্রের অনুরূপ। আর্থিক দণ্ড, বেত্রদণ্ড, অঙ্গহানি, মৃত্যুদণ্ড ইত্যাদি গুরুদণ্ড প্রচলিত ছিল। মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত অন্যান্য গুরুদণ্ড সম্রাটের অনুমোদন ছাড়া কার্যকরী করা যেত। লঘুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাধারণত বন্দি করে রাখা হতো।পরিশেষে বলা যায়, হযরত ওমর (রা.) এর শাসনের মতো সম্রাট আকবরও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন।