উদ্দীপকের শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের শেরশাহের কার্যকলাপের মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের কাশেম খান মসনদের অধিষ্ঠিত হয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত হন। তিনি মাত্র পাঁচ বছর শাসন করেন। বহু রাস্তাঘাট, সরাইখানা, সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। জমি জরিপ, সামরিক সংস্কার, পুলিশ ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, ডাক বিভাগ ইত্যাদি সংস্কারমূলক কাজের জন্য ইতিহাস বিখ্যাত হয়ে আছেন। যা শেরশাহের কর্মকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা শেরশাহ ক্ষমতা গ্রহণ করে বহু রাস্তাঘাট, সরাইখানা, সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। জমি জরিপ, সামরিক সংস্কার, পুলিশ ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, ডাক বিভাগ ইত্যাদি সংস্কারমূলক কাজ করেন। তিনি ভূমি জরিপের মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করেন। কবুলিয়ত ও পাট্টা একটি গভীর যোগসূত্র তৈরি হয়। ফলে সরকার কৃষি রাজস্ব থেকে কখনো বঞ্চিত হয়নি। শুল্ক ও মুদ্রানীতিও সম্রাটের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ছিল। তিনি ভারতবর্ষে তঙ্কা (টাকা) ও রুপাইয়ার প্রচলন করেন। সামরিক সংস্কারের মধ্যে তার অশ্ব চিহ্নিতকরণ নীতি ছিল অন্যতম। তিনি প্রায় দেড় লাখ অশ্বারোহী ও অর্ধলক্ষ পদাতিক ও গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। শেরশাহ পুলিশ ও গুপ্তচর ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের বিদ্রোহী মনোভাব বুঝতে সমর্থ হতেন। বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করে তিনি সব নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমানাধিক প্রদান করেন। জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড নির্মাণ করেন। রাস্তার পাশে অসংখ্য সরাইখানা নির্মাণ করেন। তিনিই প্রথম ভারতবর্ষে ডাক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করেন।
অতএব, উদ্দীপকের শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের শেরশাহের কার্যকলাপের মিল পাওয়া যায়।