উদ্দীপকে আইয়ুবি বংশের খলিফা বাবুল হোসেনের সাথে পাঠ্যপুস্তকের সম্রাট আওরঙ্গজেবে মিল রয়েছে।...উদ্দীপকে দেখা যায়, আইয়ুবি বংশের খলিফা বাবুল হোসেন ইসলামি অনুশাসন মেনে কুরআন নকল ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তিনি অনৈসলামিক কাজ ও ২০ প্রকারের বেআইনি কর নিষিদ্ধ করেন। শেষ সময় তিনি দাক্ষিণাত্যে বিজয় অভিযান প্রেরণ করেন। যা সম্রাট আওরঙ্গজেবকে নির্দেশ করে। ভ্রাতৃ যুদ্ধে বিজয়ী আওরঙ্গজেব ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সম্রাট আওরঙ্গজেব সহজ সরল ও আড়ম্বরহীন জীবনযাপন করতেন। এজন্য তিনি রাজকোষ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করতেন না। কুরআন নকল ও টুপি সেলাই করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। পিতার প্রতি অসদাচরণ ও ক্ষমতার জন্য ভাই ও আত্মীয়দের হত্যা তার নিষ্কলুষ চরিত্র, মহিমার ওপর কিছুটা হলেও কালিমা লেপন করেছে। আওরঙ্গজেব মুঘল বংশের সর্বশেষ শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। তার যোগ্যতা তাকে ইতিহাসপ্রসিদ্ধ মুঘল বংশের অত্যতম শ্রেষ্ঠ শাসকের মর্যাদায় অভিসিক্ত করেছে। দাক্ষিণাত্যের সুবাদার থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সম্রাট হিসেবে প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল তিনি যোগ্যতা ও কৃতিত্বের সাথে শাসনকাজ পরিচালনা করেছেন। শাসনকাজ পরিচালনায় তিনি প্রশাসনের সব বিষয় তদারকি করতেন। ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তিনি দুর্নীতি, অনৈসলামিক ও অনৈতিক কাজ নিষিদ্ধ করেন। অন্যায় কর আদায় বন্ধ করেন। তার সময় ৮০ প্রকার বেআইনি কর রহিত করা হয়েছিল। অবশ্য তিনি শরিয়ত আরোপিত জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন। তিনি নিজে ন্যায়বিচার করতেন এবং অন্য বিচারকদেরও তা অনুসরণের নির্দেশ দেন। তার সময়ে ইসলামি আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ বিচার করা হতো। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।