উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সামরিক সংস্কারের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের সামরিক সংস্কারের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের সুলতান ওরখান সামরিক ক্ষেত্রে কতকগুলো সংস্কার সাধন করেন। তিনি অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর সমন্বয়ে স্থায়ী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। আকিঞ্জী নামে একটি অনিয়মিত অশ্বারোহী বাহিনীও গঠন করেন। জেনিসারি নামে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত একটি নতুন বাহিনী গড়ে তোলেন। যা সম্রাট আকবরের সামরিক সংস্কারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সম্রাট আকবরের পূর্বে সাম্রাজ্যের স্থায়ী কোনো সেনাবাহিনী ছিল না। জায়গিরদারগণ প্রয়োজনের সময় সৈন্য সরবরাহ করতেন। এতে অনেক সময় নানা অসুবিধা হতো সম্রাট আকবর ক্ষমতা গ্রহণ করে মনসবদারি পদ্ধতিতে সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন। সম্রাট আকবর মনসবদারি প্রথা গড়ে তুলে মুঘল সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে চার ভাগে বিভক্ত করেন। সম্রাট আকবরের সেনাবাহিনী পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ ও নৌবাহিনী -এ চার ভাগে বিভক্ত ছিল। সম্রাটের সেনাবাহিনীতে পদাতিক বাহিনীর ভূমিকা ছিল গৌণ। অন্যদিকে, অশ্বারোহী বাহিনী ছিল মুঘল সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ডস্বরূপ। তার গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান ছিল মীর-ই-আতিশ এবং নৌবাহিনীর প্রধান আমির-ই-বহর, সম্রাট নিজেই ছিলেন সাম্রাজ্যের প্রধান সেনাপতি। কেন্দ্রে মীর বকশি এবং প্রদেশে বকশির তত্ত্বাবধানে সমগ্র প্রশাসন পরিচালিত হতো।
অতএব উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সামরিক সংস্কারের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের সামরিক সংস্কারের মিল রয়েছে।