গাজান খানের প্রশাসনের সাথে শেরশাহের প্রশাসনের সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরশাহ শাসনক্ষেত্রে যে কৃতিত্বের পরিচয় দেন তা তাকে ইতিহাসে অমরত্ব দান করেছে। অর্থ ও রাজস্ব সংস্কার এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এ ব্যাপারে তিনি বিশেষ মৌলিক প্রতিভা ও দক্ষতার পরিচয় দেন। ঐতিহাসিকদের মতে শেরশাহের রাজস্ব ব্যবস্থা যুক্তি গত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিক ও উদারনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। শেরশাহ ভূমি রাজস্ব সংস্কারে বিশেষ মনোযোগ দেন। কৃষি ও কৃষকের কল্যাণমুখী একটি ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাকে ন্যায় করার উদ্দেশ্যে শেরশাহ সযত্নে জমি জরিপের ব্যবস্থা করেন। শেরশাহ ভূমি রাজস্ব নির্ধারণের পূর্ব শর্ত হিসেবে প্রথমে সাম্রাজ্যের চাষ উপযোগী সম্যত পরিমাপের ব্যবস্থা করেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিশীলতাকে বৃদ্ধি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনীর চলাচল এবং ডাকব্যবস্থার সুবিধার জন্য শেরশাহ সুন্দর ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেন। ডাক ব্যবস্থা সংস্কার করেন। আইনের শাসন বলবৎ রাখা পত্তাবিধান রাখার উদ্দেশ্যে পুলিশ ও গোয়েন্দা ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকের গাজন খান রাজস্ব ক্ষেত্রে বিশৃংখলার দূর করার জন্য জমি জরিপ কর নির্ধারণ করে দেন।মুদ্রা সংস্কার করে খাঁটি ইসলামী মুদ্রার প্রচলন করেন এবং ডাক বিভাগের সংস্কার করেন।
সুতরাং বলা যায় গাজন খানের প্রশাসনের সাথে শেরশাহ প্রশাসনের সাদৃশ্য রয়েছে।