উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল রাজবংশের পতনের অন্যতম কারণ— মন্তব্যটি যথার্থ ।
সম্রাট আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল ও ভারতবর্ষের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল। ভিনসেন্ট স্মিথ বলেন, "The Deccan was not only the grave of his body but also of his empire." অর্থাৎ দাক্ষিণাত্য নীতি শুধু সম্রাটের নিজেরই সমাধিক্ষেত্র নয়, তার সাম্রাজ্য তথা মুঘল সাম্রাজ্যেরও সমাধিক্ষেত্র ছিল।
সম্রাট আওরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্য নীতিতে সাফল্য লাভ করলেও প্রকৃতপক্ষে সব কিছুই হারান। ১৬৮২ হতে ১৭০৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সম্রাটের একটানা দাক্ষিণাত্যে অবস্থানের ফলে উত্তর ভারতে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। উত্তরার্ধে সম্রাটের অনুপস্থিতিতে মুঘল নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে। দাক্ষিণাত্য জয়ের ফলে সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। দাক্ষিণাত্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হওয়ার ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতে সংকট দেখা দেয়। দিল্লি হতে দাক্ষিণাত্য গমন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ১,৭৭,০০০ সৈন্যের ভরণপোষণ করতে গিয়ে মুঘল রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। সেনাদের বেতন ভাতা বকেয়া পড়ায় সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া মুঘলদের বিরুদ্ধে মারাঠাদের প্রতিরোধ যুদ্ধে উৎসাহিত হয়ে আফগান, শিখ, জাঠ, মেওয়াটি ও রাজপুত্ররা চারিদিক দিক থেকে মাথা তুলে দাঁড়ায়। মুঘলদের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহ সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূলকে দুর্বল করে দেয়। উত্তর ভারতে সম্রাটের অনুপস্থিতি বাংলায় ইংরেজ শক্তির উত্থান, নিষ্কণ্টক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় মুঘল সাম্রাজ্যকে পতনের দিকে ধাবিত করে।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের পতনকে ত্বরান্বিত করে।