উদ্দীপকে বর্ণিত মুঘল আফগান দ্বন্দ্বে শেরশাহের সফলতার পেছনে নানা কারণ বিদ্যমান।
একজন সুদক্ষ শাসক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে শেরশাহ অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী। ভারতবর্ষ শাসনকারী স্বজাতীয় যেকোনো শাসক অপেক্ষা তিনি শ্রেষ্ঠ। তিনি রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি ও কূটনৈতিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তার এ গুণের কারণে তিনি মুঘল আফগান দ্বন্দ্বে সফলতা লাভ করেন।
শেরশাহ ছিলেন হুমায়ুনের সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের মানুষ। তিনি ছিলেন সমকালের অন্যতম দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হুমায়ূন অপেক্ষা তিনি ছিলেন রনঅভিজ্ঞ একজন সেনাপতি। সামরিক কলা-কৌশল ও শক্তিমত্তায় তিনি হুমায়ুন অপেক্ষা অনেক ঊর্ধ্বে ছিলেন। সামরিক বাহিনী গঠন ও পরিচালনায় তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল। অন্যদিকে হুমায়ুনের ব্যক্তিগত বীরত্বের দু- একটি উদাহরণ থাকলেও সামরিক বাহিনী গঠনে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ । হুমায়ুন ও শেরশাহের এ বিপরীত অবস্থান শেরশাহের সাফল্যের মূলে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিল বলে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। তাছাড়া হুমায়ুনের সেনাবাহিনী নানা জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত ছিল। এ বাহিনীর সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল। তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সংহতি ও নিয়মানুবর্তিতার অভাব ছিল। মুঘল সেনাবাহিনীর এ দুর্বলতা সুনিয়ন্ত্রিত ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনীর অধিকারী শেরশাহের সাফল্যের অন্যতম কারণ । আবার হুমায়ুন তার বিপদে জ্ঞাতি ও আপনজনদের সহযোগিতা পাননি । কিন্তু শেরশাহের প্রতি আফগানদের পূর্ণ সমর্থন ছিল। তাই শেরশাহের পক্ষে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সাফল্য লাভ সম্ভব হয় এবং তিনি ভারতের ভাগ্যাকাশে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হন ।
সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, শেরশাহের দূরদর্শিতা, সামরিক ও কূটনৈতিক কলাকৌশলই ছিল মুঘল-আফগান সংঘর্ষে তার সাফল্যের রহস্য।