উল্লিখিত মহীয়সী রমণী অপেক্ষা আমার পঠিত মুঘল সম্রাজ্ঞী গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ ছিলেন— উক্তিটি যথার্থ ।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (১৬০৫-১৬২৭) নূরজাহান এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তিনি অসীম সাহসিকতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞতার মতো গুণাবলি প্রদর্শন করে রাষ্ট্রীয় কাজে অনন্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মহিয়সী রমণী তারুবা রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে প্রতিভার পরিচয় দিলেও তিনি অসাধারণ গুণের অধিকারী ছিলেন না। অন্যদিকে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহান অসামান্য রূপ ও অসাধারণ গুণের অধিকারী। সর্বগুণে গুনান্বিত নূরজাহানের ছিল তীক্ষ্ণবুদ্ধি, প্রগাঢ় সাধারণ জ্ঞান এবং শিল্প সাহিত্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ। অনিন্দ্য ও অনুপম সৌন্দর্য, অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নূরজাহান রাজকার্যে বিচক্ষণ, ফার্সি সাহিত্যে অপরিসীম ব্যুৎপত্তি এবং অসি চালনা, রণকৌশল ও অশ্বারোহণে ছিলেন পারদর্শিনী। ললিতকলায় বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাশনের অগ্রদূত নূরজাহান নিত্য নব নব ঢংয়ের পোশাক পরিচ্ছদ ও অলঙ্কারের প্রবর্তন করে সমসাময়িক কালের অভিজাত সম্প্রদায়ের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ঐতিহাসিক হাশিম কাকী খান বলেন, 'নূরজাহান কর্তৃক প্রবর্তিত ফ্যাশন সমাজে আজও প্রচলিত রয়েছে, নূরজাহান একজন সমাজ সেবকও ছিলেন। মুহাম্মদ হাদী বলেন, 'নূরজাহান ছিলেন সকল বিপদগ্রস্ত বা অসহায়দের আশ্রয়স্থল এবং অনাথ বালিকাদের তিনি নিজ খরচে বিবাহ প্রদান করতেন'। বাঘ শিকারেও নূরজাহান সিদ্ধহস্ত ছিলেন। একবার জাহাঙ্গীরের সাথে মৃগয়ায় গমন করে তিনি স্বহস্তে একটি ব্যাঘ্র শিকার করেছিলেন।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, নূরজাহান অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী যেমনটি উদ্দীপকে বর্ণিত তারুবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তাই বলা যায়, তারুবা অপেক্ষা নূরজাহান গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ ।