উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজস্ব সংস্কার পদ্ধতির সাথে আমার পঠিত আফগান শাসক শেরশাহের ভূমি রাজস্ব নীতির মিল রয়েছে।
রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের রাজত্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তার আগে রাজস্ব নির্ধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি প্রচলিত ছিল না । কানুনগো নামক কর্মচারীদের মৌখিক বিবরণের ওপর ভিত্তি করে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করা হতো। এতে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ ছিল। এ সমস্যার সমাধানে শেরশাহ ভূমি রাজস্ব এবং শুল্ক ও মুদ্রা ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট সংস্কার সাধন করেন ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নাসির উদ্দিন শাহ শাসনক্ষমতা গ্রহণের পর প্রচলিত রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনি জমি জরিপ প্রথা চালু করেন এবং রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায় ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। তার শাসনামলে রাজস্ব আদায়ের জন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দান করা হয়। এ ছাড়াও প্রজা স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বহু পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। অনুরূপভাবে শেরশাহ তার রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করার জন্য নির্ভুল ভূমি জরিপ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং উৎপাদিত শস্যের এক-তৃতীয়াংশ খাজনারূপে নির্ধারণ করেন। জনসাধারণ নগদ অর্থে অথবা উৎপাদিত শস্যে খাজনা দিতে পারতো। তিনি চাষযোগ্য জমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেন। যথা- উর্বর, অপেক্ষাকৃত কম উর্বর এবং অনুর্বর। এছাড়া শেরশাহ রৌপ্য ও স্বর্ণ মুদ্রা এবং দাম নামে তাম্রমুদ্রারও প্রচলন করেন। ফলে প্রজাসাধারণ খুব সহজেই সরাসরি রাজ কোষাগারে খাজনা জমা দিতে পারত। এ সংস্কারের ফলে শেরশাহের রাজস্ব প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। ফলে রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়, যা উদ্দীপকের রাজস্ব সংস্কারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।