মুঘল শাসন ব্যবস্থা ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
মুঘল সাম্রাজ্য ভারতে প্রায় ৩০০ বছর (১৫২৬-১৮৫৮) শাসনকার্য পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময়ের এই শাসনামলে মুঘলদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভারতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল।
মুঘল আমলের শাসন ব্যবস্থা ছিল দুটি ভাগে বিভক্ত। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক। মুঘলদের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান ছিলেন সম্রাট। মূলত তাকে ঘিরেই সমগ্র প্রশাসন যন্ত্র আবর্তিত হতো। সম্রাট ছিলেন সাম্রাজ্যের সকল নির্বাহী ক্ষমতার উৎস। নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সম্রাটরা স্বেচ্ছাচারী ছিলেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা ছিলেন প্রজাহিতৈষী মুঘল আমলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে ছিল ওকিল, দিওয়ান, মীর বকশি, মীর সামান কাজি-উল-কুজ্জাত প্রভৃতি প্রশাসক। প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থায় ছিল- সুবেদার, দিওয়ান, সদর ও কাজী, বকশি, সরকার পরগনা ও গ্রাম প্রশাসন প্রভৃতি। মুঘল আমলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল সন্তুষজনক। বৈদেশিক পর্যটকেরা মুঘল দরবারের ঐশ্বর্য এবং মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা স্বচক্ষে দেখে ভূয়াসী প্রশংসা করে গেছেন। স্থলপথ ও জলপথ উভয় পথেই ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য ছিল উত্তম ব্যবস্থাপনা। ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালনার জন্য ছিল দাম, পয়সা, অথবা ফুলুস নামক মুদ্রা ব্যবস্থা। মুঘল আমলে অর্থনীতির প্রধান উপজীবিকা ছিল কৃষি। শিল্পোৎপাদিত দ্রব্যাদির প্রাচুর্যও এ সময় লক্ষণীয়। মুঘল আমলে গ্রাম্য জীবনের রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে গ্রাম্য প্রধানরা রায়ত ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মধ্যস্থতা করতো। গ্রামের ছোটোখাটো ঝগড়া-বিবাদ গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরাই মীমাংসা করেছিলেন ।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মুঘলদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল তাৎপর্যবহ।