তৈমুর লংয়ের মতো সম্রাট হুমায়ুনও অদূরদর্শিতা ও কৌশলগত দুর্বলতার কারণে বাংলা বিজয় পরবর্তী চৌসার যুদ্ধে শেরশাহের কাছে পরাজিত হয়ে সাময়িকভাবে রাজ্যহারা হয়েছিলেন।
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে চুনার দুর্গ আক্রমণ ও দখল করে বাংলা বিজয় সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি বাংলায় প্রায় ৬ মাস আমোদ-প্রমোদে মত্ত থাকেন। এ সুযোগে শেরশাহ নিজের শক্তি বৃদ্ধি করে হুমায়ুনকে আক্রমণ ও পরাজিত করেন। তৈমুর লংয়ের পরাজয়ের ক্ষেত্রেও হুমায়ুনের অদূরদর্শিতার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
তৈমুর লং সিস্তান দখল করে যখন নিশ্চিন্তে রাজধানীতে বিশ্রাম করছিলেন, তখন সিস্তানের সৈন্যরা তাকে চারদিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ করে। ফলে তৈমুর লং পরাজিত হন এবং কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যান। একইভাবে হুমায়ুনও শেরশাহকে চুনার দুর্গে পরাজিত করে আমোদ-প্রমোদে মত্ত হয়ে পড়েন, যা চৌসার যুদ্ধে (১৫৩৯) তার পরাজয় ডেকে আনে। হুমায়ুন চুনার দুর্গ অধিকার করেন এবং বাংলা জয় করে সেখানে ছয় মাস অতিবাহিত করেন। কৌশলগত দিক থেকে এটি ছিল অপরিপক্ব এবং ভুল সিদ্ধান্ত। কেননা এর ফলে শেরশাহ নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার সুযোগ পান এবং বাংলা দখল করেন। এ অবস্থায় হুমায়ুন ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে গৌড় অবরোধ করেন। কৌশলী শের খান মুঘল বাহিনীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে গৌড় ত্যাগ করেন। হুমায়ুন গৌড় দখল করে সেখানে ছয় মাস আলস্য ও আমোদে সময় কাটান। সে সময়ে শেরশাহ বিহার, বারানসী, জৈনপুর ও কনৌজ দখল করেন। এভাবে হুমায়ুনের আলস্য ও ত্রুটিপূর্ণ কৌশলের কারণে শেরশাহ নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেন। এর ফলে চৌসার যুদ্ধে হুমায়ুন পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলা জয়ের পর হুমায়ুনের আলস্য ও অদূরদর্শিতাই চৌসার যুদ্ধে তার পরাজয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। এমনকি, এর ফলে তাকে সাময়িকভাবে রাজ্যহারা হতে হয় ।