উদ্দীপকের দুঃসাহসী রাজা অর্থাৎ মুঘল সম্রাট বাবরের প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থার পতনের নানাবিধ কারণ ছিল।
সম্রাট বাবর প্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্য সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর থেকেই দক্ষ শাসকের অভাবে অধঃপতন ও ক্রমাবনতির দিকে ধাবিত হয়। পাশাপাশি সুষ্ঠু উত্তাধিকার আইনের অভাব, এককেন্দ্রিক রাজতন্ত্র, অভিজাতবর্গের নৈতিক স্খলন, অর্থনৈতিক ও সামরিক অবনতিসহ নানা কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন হয়। এছাড়াও নাদির শাহের আক্রমণ, ইউরোপীয়দের হস্তক্ষেপ এবং সর্বশেষ সিপাহি বিদ্রোহ মুঘল সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন ঘটায়।
জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্য দীর্ঘ (১৫২৬-১৮৫৮) প্রায় ৩০০ বছর শাসন করেও পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। মুঘল সম্রাজ্যের পতনের পেছনে আওরঙ্গজেবোত্তর দুর্বল মুঘল সম্রাট, সাম্রাজ্যের বিশালতা, নীতি-আদর্শহীন রাজনীতি, সামরিক ও নৌবাহিনীর দুর্বলতা, প্রদেশসমূহের স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ জাতিগোষ্ঠীর বিরোধিতা, পার্শ্ববর্তী রাজ্যের আক্রমণ দায়ী ছিল । মুঘল সাম্রাজ্যের অনৈক্য ও অরাজকতার সুযোগে স্থানীয় অনেক শক্তি বিশেষ করে শিবাজীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একই ধারা হিন্দু জাতীয়তাবাদী চেতনার ব্যাপক বিকাশ ঘটায় । শিয়া-সুন্নি বিরোধও এই সাম্রাজ্য পতনের কারণ ছিল। তাছাড়া আফগান শাসক নাদির শাহের আক্রমণের ফলে মুঘলদের রাজনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। পরবর্তীতে নাদির শাহের সেনাপতি আহমদ শাহ আবদালি বার বার ভারত আক্রমণ করে পতনোম্মুখ মুঘল সাম্রাজ্যের দীর্ঘ তিনশত বছরের শাসনের পতনকে ত্বরান্বিত করে।