উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' এর সাথে আমার পঠিত আফগান শাসক শের শাহের ভূমি জরিপের মিল পাওয়া যায় ।
ভারতীয় ভূমি রাজস্ব নীতির উন্নয়ন ও বিকাশে শেরশাহের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি তার শাসনামলে নানা জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণসহ ভূমি জরিপ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট, সরাইখানা নির্মাণ করে শেরশাহ ভারতবর্ষে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন । উদ্দীপকে তারই প্রতিচ্ছবি লক্ষণীয় ।
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসক 'ক' শাসন ক্ষমতা লাভের পর বিভিন্ন সংস্কারের প্রতি মনোযোগ দেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য তিনি শাসন এলাকাকে প্রদেশ ও জেলায় বিভক্ত করেন। ভূমি জরিপ ও ভূমি বন্দোবস্ত পদ্ধতি চালু সহ ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন । রাস্তাঘাট, সরাইখানা নির্মাণ করে পথচারী ও ভ্রমণকারীদের বিশেষ সুবিধা করে দেন। অনুরূপভাবে শেরশাহ শাসনকাজের সুবিধার জন্য প্রশাসনে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি গ্রহণ করেন। শেরশাহ তার বিশাল সাম্রাজ্যকে সরকার নামক ৪৭টি প্রশাসনিক ইউনিটে বিভক্ত করেন । ডাক ব্যবস্থার প্রচলন সহ সেনাবাহিনীর চলাচলের সুবিধার জন্য শেরশাহ বেশকিছু দীর্ঘ ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করেন। তার নির্মিত রাস্তাগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল 'সড়ক- ই-আজম' বা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। শেরশাহ ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করে উৎপাদিত শস্যের গড়পড়তা তিন ভাগের এক ভাগ রাজস্ব নির্ধারণ করেন। অবশ্য মুলতানসহ কিছু অঞ্চলের রাজস্ব উৎপাদন শক্তির ওপর নির্ভর করে চার ভাগের এক ভাগ আদায় করা হতো। এছাড়া তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের রাজস্ব মওকুফ এবং কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেন। শেরশাহ জমির ওপর কৃষকের অধিকার স্বীকার করে কৃষককে সরকারের পক্ষ থেকে 'পাট্টা' প্রদান করেন। অন্যদিকে, ভূমিতে কৃষকের দায় ও কর্তব্য বর্ণনা করে কৃষকেরা রাষ্ট্রকে 'কবুলিয়ত' প্রদান করত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শাসকের সাথে শেরশাহের সাদৃশ্য বিদ্যমান।