উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির সাথে ভারতের মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো: জহিরউদ্দীন মুহাম্মদ বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারী মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্তানের ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ওমর শেখ মির্জার আকস্মিক মৃত্যুতে বাবর মাত্র ১১ বছর ৪ মাস বয়সে ফারগানার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। সিংহাসনে আরোহন করার পরপরই বাবরের দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন ও উজবেক নেতা সাইবানি খানের বিরোধিতার মুখে পড়েন এবং রাজ্যচ্যুত হন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজ যোগ্যতায় একটি সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। উদ্দীপকে এই ঘটনারই প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। উদ্দীপকে আশরাফ চৌধুরী পৈতৃক সূত্রে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি হন।কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হলে তিনি অভ্যন্তরীন দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্যে আক্রমণ করেন। উন্নত রণকৌশল ও কামান ব্যবহার করে তিনি প্রতিবেশী রাজ্যের বিশাল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে একটি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেন। একইভাবে বাবর ফারগানার দায়িত্ব পাওয়ার পর চারদিকের শত্রুদের আক্রমণে রাজ্য হারা হন। কিন্তু বাবর দমে যাওয়ার পাত্র নন। পার্শ্ববর্তী রাজ্যে অভ্যন্তরীন গোলযোগের সুযোগ নিয়ে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল দখল করেন। এরপর সমরখন্দ, কান্দুজ, তাসখন্দ হিসার এবং ফারগানা রাজ্য দখল করেন। এছাড়াও সমকালীন ভারতের আর্থ -সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দূর্বলতার সুযোগে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য স্থাপনের ভিত্তি স্থাপন করেন। এসব দিক বিবেচনা করে উদ্দীপকের শাসকের সাথে মুঘল সম্রাট বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।