মুঘল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজ মহলের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তার সমাধির ওপর বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্যকর্ম তাজমহল নির্মাণ করেন। প্রয়াত স্ত্রীর প্রতি অপরিমেয় ভালোবাসাই তার এ উদ্যোগের পেছনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। এ দিক থেকে তাজমহল নির্মাণের উদ্দেশ্যকে যৌক্তিক বলা যেতে পারে।
মমতাজ তার ফুফু নূরজাহানের মতোই অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন প্রতিভাবান। সম্রাট জাহাঙ্গীর আসফ খানের কন্যার সৌন্দর্য ও প্রতিভার কথা জেনে প্রিয় পুত্র খুররমের (শাহজাহানের) সাথে তার বিয়ে দেন। ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে মহা ধুমধামে দু'জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনে সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজ মহল খুবই সুখী ছিলেন। ফুফু নূরজাহানের মতো মমতাজও তার সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে স্বামীর হৃদয় জয় করেছিলেন। মমতাজের এ গুণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তার মৃত্যুর পর শাহজাহানকে অনন্য সমাধিসৌধ তাজমহল নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছিল ।
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসাকে অমরত্ব, দেওয়ার জন্য শাহজাহানের আকুতির প্রশংসা করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন 'শা-জাহান' কবিতাটি উদ্দীপকে যার অংশবিশেষ উদ্ধৃত হয়েছে। মমতাজ মহল ছিলেন একজন প্রতিভাময়ী ও উন্নত সাংস্কৃতিক রুচির নারী । তিনি নম্রতার জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। মমতাজ নবীন বয়সেই অনেক বিশিষ্টজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা ও ভালোবাসার জোরে তিনি স্বামী শাহজাহানের হৃদয়ের রানিতে পরিণত হয়েছিলেন। সম্রাট রাজ্যপরিচালনার অনেক ব্যাপারেও তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন। আরও কয়েকজন স্ত্রী থাকলেও তিনি মমতাজ মহলকেই প্রধান মহীয়ষীর আসন দান করেন.। মমতাজকে সম্রাট 'মালিকা-ই-জাহান' (বিশ্বের রানি) এবং 'মালিকা-উজ- জামান' (যুগের রানি) উপাধি দিয়েছিলেন। ব্যক্তিজীবনে মমতাজ মহল ছিলেন ধর্মনিষ্ঠ ও উদারমনা। সম্রাট মমতাজ মহলকে খুবই ভালোবাসতেন । ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুন চতুর্দশ সন্তান প্রসবকালে মারা যান ৩৯ বছর বয়সী মমতাজ। এতে সম্রাট শাহজাহান খুবই বেদনাহত হন। মমতাজের মৃত্যুর পর তিনি প্রায়ই বলতেন, 'রাজ্যে আর কোনো মাধুর্য নেই, জীবনের প্রতি আমার আর কোনো মোহও নেই।' প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা থেকে তার স্মৃতি চিরজাগরুক রাখতে সমাধির ওপর তাজমহল নির্মাণ করেন শাহজাহান। এটি একইসঙ্গে চিরন্তন প্রেম এবং স্থাপত্যশিল্পের এক অত্যুজ্জ্বল নিদর্শন ।