উদ্দীপকের ঘটনা সাথে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সময়ের উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
মধ্যযুগে ভারতের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ও কলঙ্কময় ঘটনা হলো সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্রের মধ্যে উত্তরাধিকার সংগ্রামের দ্বন্দ্বের লড়াই। ১৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চার পুত্র দারাশিকো, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ সিংহাসন লাভের জন্য উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। উদ্দীপাকা আমরা একই দৃশ্য দেখতে পাই।
উদ্দীপকে বর্ণিত জামাল চৌধুরীর শাসনকালের শেষ দিকের অবস্থা ভালো ছিল না। তার চার পুত্রের মধ্যে সিংহাসনের উত্তরাধিকা দ্বন্দ্ব অনেক লড়াই হয়। পুত্রদের মধ্যে একজন ক্ষমতা দখল করে চৌধুরী সাহেবকে বন্দী করেন। বন্দি অবস্থায় ১০ বছর অতিবাহিত করার পথে মৃত্যুবরণ করেন। একইভাবে সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবনে অনেক দুঃখ-দূর্দশা ও অবমাননার মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯৫৭ সালের বৃদ্ধ শাহজাহান অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথে তার চার পুত্রের মধ্যে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের ঝগড়া শুরু হয়। পুত্রদের মধ্যে আওরঙ্গজে সিংহাসনের উপযুক্ত হলেও দারার প্রতি সম্রাটের অন্ধ বিশ্বাসের কারণে ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আওরঙ্গজেব সুজা ও মুরাদের মধ্যে ত্রি-শক্তি জোট গঠিত হয়। ফলে শাহ সুজা নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন। কিন্তু দারার কাছে তিনি পরাজিত হয়ে নিজ রাজ্যে ফিরে যান। অন্যদিকে আওরঙ্গজেব ও মুরাদের সম্মিলিত বাহিনী ধর্মাট ও সামুগড়ের যুদ্ধে দারাকে পরাজিত করে এবং কৌশলে মুরাদকে পরাজিত করপ আওরঙ্গজেব ক্ষমতা দখল করে। এরপর সম্রাট শাহজাহানকে আগ্রা দুর্গে নজর বন্দি করা হয়। দীর্ঘ ৮ বছর বন্দি থাকার পর অবশেষে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দের ২২ শে জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে সম্রাট শাহজাহান মৃত্যুবরণ করেন।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্রের উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের মিল রয়েছে।