উদ্দীপকে জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর মতো সম্রাট শাহজাহান স্থাপত্যকীর্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হন। নিচে উদ্দীপকে জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর কর্মকান্ডের আলোকে উক্ত সম্রাটের স্থাপত্যকীর্তির মূল্যায়ন করা হলো- মুঘল সাম্রাজ্যের সম্রাট হওয়ার পর সম্রাট শাহজাহান সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাথে ভারতে স্থাপত্যকীর্তির ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। তার স্থাপত্যকীর্তির জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তার শাসনামলে স্থাপত্যকীর্তির ক্ষেত্রে তিনি যে উৎকর্ষ সাধন করেন তা তাকে ভারত উপমহাদেশের শাস্কদের মধ্যে অদ্বিতীয় স্থানের অধিকারী করে দিয়েছে। স্থাপত্যকীর্তির মধ্যে তার সর্বশেষ কীর্তি হলো প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের সমাধির ওপর নির্মিত 'তাজমহল' ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার প্রদর্শনস্বরূপ তিনি এ মহলটি নির্মাণ করেন। তিনি আগ্রা হতে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর করে। সেখানে একটি শহর তৈরিকালে অনেক রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। তিনি দিল্লি, আগ্রা, লাহোর, কাবুল, কাশ্মিরসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক সুন্দর প্রাসাদ ও মসজিদ নির্মাণ করেন। বাদশাহী মসজিদ তার মধ্যে অন্যতম। এছাড়া লাহোরের শালিমার উদ্যান তার স্থাপত্যকীর্তির নিদর্শন বহন করে। তাছাড়াও তার নির্মিত দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান- ই-খাস, লালকেল্লা, রঙমহল, মতি মসজিদ, দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়ার শ্বেতপ্রস্তর নির্মিত স্মৃতিসৌধ, আজমীরের আনাসাগরের মর্মর পাটাতন এবং পাঁচটি চন্দ্রাতাপ নির্মাণ অন্যতম। এভাবে সম্রাট শাহজাহান বিভিন্ন প্রাসাদ, মসজিদ, স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে স্থাপত্যকীর্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে মহিম রায় চৌধুরীর কর্মকান্ডের মাধ্যমে সম্রাট শাহজাহানের কর্মকান্ড ফুটে উঠেছে।