"উক্ত খলিফার কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ফুটে উঠেছে” – উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উক্ত খলিফা তথা হযরত ওমর (রা.)-এর কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ফুটে উঠেছে। মন্তব্যটি যথার্থ।হযরত উমর (রা.) একজন আদর্শ শাসক ছিলেন। তার শাসনব্যবস্থা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা কল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা। তিনি জনকল্যাণে তাঁর সাম্রাজ্যকে আটটি প্রদেশে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁর গৃহীত ব্যবস্থায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ হয়। প্রশাসনকে তিনি জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেন। এতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। জনগণ অতি সহজে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সুবিধাদি লাভ করে। প্রতিটি প্রদেশে সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রদেশে বিভক্তির ফলে কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করে তিনি বিচারব্যবস্থাকে শাসনবিভাগ থেকে পৃথক করে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। এর ফলে প্রত্যেক অঞ্চলের জনগণ সুবিচার পায়। এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বিরাজ করে। তাঁর শাসনামলে কোনো বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলার সুযোগ ছিল না। বলা যায়, তাঁর পদক্ষেপগুলো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ ছিল। তিনি মজলিস-উশ-শূরার পরামর্শক্রমে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণা পরিষদ গঠন করেন যা মজলিস-উশ-শুরা বলা হতো। এটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। তা হলো- ১. মজলিস-উস-খাস ও ২. মজলিস-উশ-আম। মজলিস-উশ-খাস ছিল উচ্চ পরিষদ। এটাকে Cabinet বলা হয়। মজলিস-উস-আমের সদস্য ছিলেন প্রাদেশিক শাসকগণ, মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মোহাজের ও আনসারগণ। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মজলিস-উশ-আমের বৈঠক ডাকা হতো এবং সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেত।অতএব বলা যায়, হযরত ওমর (রা.) এর কর্মকান্ডে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক আদর্শ ফুটে উঠেছে।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
"উক্ত খলিফার কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক আদর্শ…
উদ্দীপক
রাজশাহী কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর