খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলের কোন যুদ্ধ নিকোপলিশের যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলের নিকোপলিশের যুদ্ধের সাথে কাদেসিয়ার যুদ্ধ সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যায়, নিকোপলিশের যুদ্ধ মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে ভাগ্য নির্ধারণী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এ যুদ্ধে সুলতানা বায়েজীদ পরাজিত হলে তাকে ইউরোপ থেকে বিতাড়িত হতে হতো। এ যুদ্ধে বিজয়ের ফলে ওসমানীয়দের গোটা ইউরোপ বিজয়ের পথা উন্মুক্ত হয়ে যায়। নিকোপলিশের যুদ্ধের পর বলকান অঞ্চলের ওয়ালেচিয়া, স্টাইরিয়া, হাঙ্গেরি, মোবিয়াসহ অধিকাংশ রাজ্য ওসমানীয় সুলতান বায়েজীদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। যা উমর (রা.)-এর পারস্য বিজয়ের সময়ে সংঘটিত কাদেসিয়ার যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বুয়ায়েবের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে পারস্য সম্রাট তৃতীয় ইয়াজদিগার্দ মহাবীর রুস্তমের নেতৃত্বে বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করে। খলিফা উমর (রা.) সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করে এক বিশাল বাহিনী 'কাদেসিয়ার প্রান্তরে' প্রেরণ করেন। ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে তিন দিনব্যাপী তুমুল যুদ্ধ হয়। আরবরা প্রথমদিনকে 'বিশৃঙ্খলার দিন বা ইয়াওমুল আরমাস' বলে অভিহিত করেন। দ্বিতীয় দিনটিকে বলা হয় 'সাহায্যের দিন বা ইয়াওমুল আগওয়াহ'। তৃতীয় দিনটিকে বলা হয় দুর্দশার দিন বা 'ইয়াওমুল উম্মাছ'। তৃতীয় দিন সারা রাত যুদ্ধ চলায় একে 'লাইলাতুল হারির' বলা হয়। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হয়। ইসলামের ইতিহাসে কাদেসিয়ার যুদ্ধের গুরুত্ব' বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ যুদ্ধে পারসিক বাহিনীর বীর সেনানি রুস্তম নিহত হলে পারসিকদের মেরুদন্ড ভেঙে যায়। টাইগ্রিস নদীর পশ্চিম দিকসহ বিশাল উর্বর এলাকা মুসলমানদের অধিকারে আসে। ফলে তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়। কাদেসিয়ার যুদ্ধ ছিল একটি মীমাংসাত্মক যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জয়লাভের ফলে মুসলমানদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এটি তাদের পরবর্তী বৃহত্তর বিজয়ে উদ্বুদ্ধ করে। তাই নিকোপলিশের যুদ্ধের সাথে কাদেসিয়ার যুদ্ধ অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলের কোন যুদ্ধ নিকোপলিশের যুদ্ধের সাথে সাদৃ…
উদ্দীপক
Rajshahi · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর