উদ্দীপকের আলোকে খলিফা উমর (রা.)-এর পারস্য বিজয়ের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: খলিফা উমর (রা.) ৬৩৪ সাল থেকে ৬৪১ সাল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে সমগ্র পারস্য বিজয় করেন। পারস্য বিজয়ের প্রথম যুদ্ধ ছিল ব্যাবিলনের যুদ্ধ। প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে ব্যাবিলনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে মুসলমানরা জয়ী হয়। ইতোমধ্যে খলিফা আবু বকর (রা.) মারা যান এবং ওমর (রা.) খিলাফত লাভ করেন। পারস্য সম্রাট ব্যাবিলনে পরাজয়ের সংবাদে সুদক্ষ সেনাপতি রুস্তমের অধীনে এক বিরাট বাহিনীকে হীরা দখলের জন্য পাঠালে মুসান্না ও আবু ওবায়দা নামারক নামক স্থানে পারসিকদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে পারসিকরা পরাজিত হয় এবং হীরা মুসলমানদের দখলে থাকে। ব্যাবিলনের নিকটবর্তী একটি অঞ্চলে ফোরাত নদীর তীর সংলগ্ন ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ নভেম্বর সাকীফ গোত্রের আবু উবাইদার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর সাথে পারসিক বাহিনীর সেতুর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী হেরে যায়। এ যুদ্ধে ছয় হাজার মুসলিম সৈন্য শাহাদতবরণ করেন। সেতুর যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের সংবাদ শুনে হযরত উমর (রা.) আরও অধিক সৈন্য প্রেরণ করেন ও যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণ করে দেন। ৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে মুসান্নার নেতৃত্বে প্রেরিত বাহিনীর সাথে বুয়ায়েব প্রান্তরে সংঘটিত যুদ্ধে পারসিক সেনাপতি মেহরানসহ বহু সৈন্য নিহত হয়। এ যুদ্ধের ফলে মাদাইন পর্যন্ত সমগ্র ভূভাগ মুসলমানদের পতাকাতলে আসে। বুয়ায়েব যুদ্ধের পরে পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী টেসিফোনে রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ক্ষমতায় আসেন ইয়াজদ জারদ। তিনি ছিলেন অল্পবয়সি। তিনি মহাবীর রুস্তমের নেতৃত্বাধীন ১,২০,০০০ সৈন্যের বাহিনী মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হয়। হযরত উমর (রা.) ৩০,০০০ সৈন্যের একটি বাহিনী সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের সেনাপতিত্বে প্রেরণ করেন। ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে কাদেসিয়ার প্রান্তরে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয় এবং মুসলিমরা বিজয়ী হয়। কাদেসিয়ার যুদ্ধে পরাজয় বরণ পারস্য সাম্রাজ্যের ভিত্তিতে আঘাত হানে। এ যুদ্ধের ফলাফল গোটা পারস্য সাম্রাজ্য দখলের সচনা করে। মাদাইন ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী। বিনা প্রতিরোধে ৬৩৭সালের জুনে এককালের পৃথিবীর বৃহৎশক্তি পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী মুসলমানদের দখলে আসে। মাদাইন থেকে একশত মাইল দূরে অবস্থিত জালুলার দুর্গ। পারস্য সম্রাট ইয়াজদ জারদ হুলওয়ানে অবস্থিত জালুলার দুর্গ দখল করলে, মুসলিম সেনাপতি হাশিম ও কা'কা ফুলওয়ান দখল করে। ৬৪১ খ্রিস্টাব্দে হামাদানের নিকটবর্তী নিহাওয়ান্দে মুসলিম সৈন্যবাহিনীর সাথে পারসিকদের যুদ্ধে মুসলিম পক্ষ বিজয়ী হয়। বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থেকে ৬৫১ সালে তুর্কিস্তানের এক গ্রামে ধৃত হয়ে পারস্য সম্রাট ইয়াজদ-জারদ নিহত হন। এ যুদ্ধের ফলে পারস্যদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে পড়ে এবং মুসলমানদের বিপক্ষে প্রতিরোধের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মুসলমানগণ একে একে ফারস, কিরমান, সিস্তান, খুজিস্তান, মাফরান, খোরাসান ও আজারবাইজান দখল করেন। এভাবে সমগ্র পারস্য মুসলমানরা বিজয় করে।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে খলিফা উমর (রা.)-এর পারস্য বিজয়ের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Rajshahi · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর