মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফার অবদান মূল্যায়ন করো ।
উত্তর: মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফার অর্থাৎ আল-মামুনের অবদান অপরিসীম। আল-মামুনের রাজত্বকালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয় এবং তার রাজত্বকালকে মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়। কেননা খলিফা আল-মামুনের শাসনামলে আব্বাসি খিলাফত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানে মামুনের অবদানের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছিল। মামুনের খিলাফত সারাসিনীয় ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গৌরবময় অধ্যায়। যথার্থভাবে একে ইসলামের অগাস্টান যুগ বলা হয়েছে। তার বিশ বছরের শাসনকাল চিন্তাধারার প্রত্যেক ক্ষেত্রে মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তির স্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন রেখে গেছে। তার রাজসভা বহু জ্ঞানী-গুণীর সমাবেশে সমুজ্জ্বল ছিল। মামুনের উদার পৃষ্ঠপোষকতায় জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে বহু দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, আইনবিদ, হাদিস সংগ্রাহক প্রভৃতি মনীষীগণ তার দরবারে স্থান লাভ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব বিভাগে অপূর্ব উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মামুন ইতিহাসে যোদ্ধা ও শাসক অপেক্ষা বিদ্বান ও বিদ্যোৎসাহী নৃপতি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। অনুবাদ কার্যকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে বায়তুল হিকমাহ বা জ্ঞানগৃহ নামে একটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ কার্যালয় স্থাপন করেন। এ যুগে অনুবাদ কার্যাদির সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে প্রভূত উন্নতিও সাধিত হয়েছিল। বস্তুত ব্যাপক অনুবাদ এবং মৌলিক গবেষণা ও সৃষ্টিধর্মী গ্রন্থ প্রণয়নের ফলে মামুনের আমলে আব্বাসি জ্ঞান-বিজ্ঞান গ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমপর্যায়ে, উন্নীত হয়। জ্যোতির্বিদ্যায় গবেষণার জন্য মামুনই সর্বপ্রথম তাদমীর প্রান্তরে শামসিয়া নামক স্থানে একটি মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ কথা বলা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির ক্ষেত্রে খলিফা আল-মামুন এক গৌরবোজ্জ্বল যুগের সূচনা করে যা শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয় সারা বিশ্বের ইতিহাসে নব জাগরণের সৃষ্টি করে।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খলিফ…
উদ্দীপক
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর