উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসককে যদি তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা যায়, তাহলে আল-মুইজকে উত্তর আফ্রিকা ও মিসরের ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরো।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত শাসক আফনান তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হলে আল-মুইজকে ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করা বেশ যৌক্তিক। রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নাগরিকদের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা শাসকের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। এসব কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে একজন শাসক শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়। আর এরূপ কর্তব্য নিষ্ঠার কারণেই ফাতেমি খলিফা আল মুইজ তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। বিদ্রোহ দমন, চেতন নগরসহ কয়েকটি রাজ্য জয়, প্রশাসনিক সংস্কার প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ সফলতা লাভ করায় উদ্দীপকের আফনানকে তার বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বলা হয়েছে। ফাতেমি খলিফা আল-মুইজও সিংহাসনে আরোহণ করে বিভিন্ন বার্বার গোত্রের বিদ্রোহ দমনের মাধ্যমে তার সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন। তিনি মিসরসহ কয়েকটি অঞ্চল দখল করে সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্রাজ্যকে প্রদেশ এবং প্রদেশকে জেলায় বিভক্ত করে সুযোগ্য প্রশাসক ও কর্মচারী নিয়োগ দেন। অভিজ্ঞ ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের নিয়োগ দিয়ে আল-মুইজ ভূমি রাজস্ব সংস্কার করেন। সেনা ও নৌবাহিনীর সংস্কারেও তিনি বিশেষ উদ্যোগ নেন। এছাড়া ব্যবসা- বাণিজ্যের উন্নয়নে আল-মুইজ নানা যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর ফলে তার শাসনকালে (৯৫৩-৯৭৫ খ্রি.) উত্তর আফ্রিকা ও মিসর সমৃদ্ধির শিখরে উপনীত হয়। উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, খলিফা আল মুইজের কার্যক্রমের ফলে ফাতেমি খিলাফত সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। তার সংস্কারধর্মী উদ্যোগগুলো মানুষের কল্যাণের জন্য গ্রহণ করা হয়েছিল। তাই তৎকালীন শাসনব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে তাকে ফাতেমি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা যায়।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসককে যদি তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা যায়, তাহলে …
উদ্দীপক
Dhaka · 2018
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর