"অতিথি ভবনটি ছিল স্থাপত্য ও শিল্পকলার নিদর্শন" আলজোহরা প্রাসাদের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর: বৈদেশিক অতিথিদের জন্য ব্যবহৃত প্রাসাদটির সাথে আলজোহরা প্রাসাদের যথেষ্ট মিল রয়েছে। বহু প্রশংসিত আল-জোহরা প্রাসাদ ৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে সিয়েরার মারনার নাব্য অঞ্চলে কডোর্ভার তিন মাইল পশ্চিমে জাবানুল উত্তুসে নির্মিত হয়। খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমান তার প্রিয়তম উপপত্নী সুন্দরী শ্রেষ্ঠা আল-জোহরার স্মরণে প্রাসাদটি নির্মাণ করেন এবং তার নামানুসারে নাম দেন 'আল-জোহরা প্রাসাদ'। এর প্রধান অংশ নির্মাণে সময় লাগে পনের বছর। অবশিষ্ট অংশের নির্মাণ কাজ সমাধান করতে আরও পঁচিশ বছর সময় লাগে। অর্থাৎ তৃতীয় আবদুর রহমান কর্তৃক এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে এবং ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় আল-হাকামের শাসনামলে সমাপ্ত হয়। আল-জোহরা। প্রাসাদ ২৮০ একর জুড়ে বিস্তৃত এক স্থানে গড়ে ওঠে। এর নির্মাণ কাজে ১০,০০০ শ্রমিক, ১,৮০০ ভারবাহী জানোয়ার প্রতিদিন ব্যবহৃত হতো। এটি নির্মাণে খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমান ৫০,০০,০০০। দিনার ব্যয় করেন। গড়ে প্রতিবছর এর নির্মাণ কাজে ১,২০,০০০ দিনার ব্যয় হতো। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান হতে সংগৃহীত সাদা, মণি রং, গোলাপি, সবুজ প্রভৃতি বিভিন্ন বর্গের মার্বেল দ্বারা এটি প্রস্তুত করা হয়। আল-জোহরা প্রাসাদ তিনটি নিম্নগামী ছাদ দ্বারা বিভক্ত ছিল। উপরের ছাদে একটি হেরেমখানা, একটি অন্দর মহল এবং একটি দুর্গ ছিল। এছাড়াও আল-হামরা জামে মসজিদ ও অভ্যর্থনা কক্ষ এ ছাদে অবস্থিত ছিল। দাসদাসীদের বসবাসের জন্য নিম্ন ছাদে গৃহ ছিল। মধ্য ছাদে বাগান, ছায়াঘেরা কুঞ্জবন ও জলকেলির জলাশয় ছিল। এ প্রাসাদের প্রবেশ পথ ছিল ৭৫০টি এবং খাম্বা ছিল ৪,৩১৬টি। এর ভেতরের ছোট স্নানাগারটি বহু মূল্যবান রত্ন ও মণিমুক্তাখচিত বারটি স্বর্ণমূর্তি পরিবেষ্টিত ছিল। এর উপরে চিত্রিত ছিল সিংহ, হরিণ, কুমির, ঈগল, ড্রাগন, ঘুঘু, বাজপাখি, মুরগি প্রভৃতির মূর্তি যাদের মুখ হতে অনবরত পানি নির্গত হতো। উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, ইতিহাসে আল-জোহরা প্রাসাদ একটি ব্যয়বহুল প্রাসাদ নামে খ্যাতি অর্জন করলেও এটি তৎকালীন আমলের শিল্প নিদর্শনের এক অমর কীর্তি।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
"অতিথি ভবনটি ছিল স্থাপত্য ও শিল্পকলার নিদর্শন" আলজোহরা প্রাসাদের বি…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর