তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের মেলায় প্রাক-ইসলামি যুগের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণ প্রতিফলন হয়েছে ? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের মেলায় প্রাক-ইসলামি যুগের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণ প্রতিফলন হয়নি। প্রাক-ইসলামি আরবের সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা বিশৃঙ্খল হলেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাদের অবদান ছিল স্বর্ণোজ্জ্বল। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তারা আরববিশ্বের বাইরেও বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিল। সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্র তাদের পদচারণায় মুখর ছিল। যার সবটুকুর ইঙ্গিত উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকের মেলা ও পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাক-ইসলামি আরবের উকাজ মেলা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এটি ছাড়াও প্রাক-ইসলামি আরবের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বেশ কিছু দিক রয়েছে। যেমন তখনকার আরবরা সাহিত্যচর্চায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। এ সময় অনেক কাসিদা বা গীতিকাব্য রচিত হয়। নিজ বংশের গৌরবগাথা ও বিভিন্ন যুদ্ধের কাহিনি নিয়ে এসব গীতিকাব্য রচিত হতো। প্রাক-ইসলামি যুগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই কবিতা চৰ্চা করত। তাদের কবিতার বিষয়বস্তু ছিল নারী, প্রেম, বংশগৌরব, কুলজি, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি প্রভৃতি। এসব কবিতায় তাদের উন্নত ভাষাজ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। এ যুগের খ্যাতিমান কবিদের মধ্যে রয়েছে ইমরুল কায়েস, তারাফা, আমর ইবনে কুলসুম, লাবিদ ইবনে রাবিয়া প্রমুখ। এ যুগে গদ্য রচনা ও প্রবাদ বাক্য চর্চার দৃষ্টান্তও লক্ষ করা যায়। বিখ্যাত পণ্ডিত আল- হাকিমের রচনায় কিছু আরবি প্রবাদবাক্য সংগৃহীত ও সংকলিত হয়েছে। জাহেলিয়া যুগেও আরবি ভাষা খুব সমৃদ্ধ ছিল। মধ্যযুগে, বহু শতাব্দীকাল ধরে আরবি ভাষা সভ্যজগতের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং উন্নতির একমাত্র মাধ্যম ছিল। এছাড়া প্রাক-ইসলামি যুগে আরবরা অসাধারণ সৃজনশীল ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিল। এর একটি উদাহরণ হলো— তারা একশত পূর্বপুরুষের নাম মুখস্থ বলতে পারত । উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, প্রাক-ইসলামি যুগে আরব সংস্কৃতির নানামুখী দিক ছিল। উদ্দীপকে এগুলো সবকিছুর প্রতিফলন ঘটেনি।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের মেলায় প্রাক-ইসলামি যুগের সাংস্কৃতিক কর্ম…
উদ্দীপক
ঢাকা সিটি কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর