উক্ত সভ্যতার বিকাশে নদীর অবদান উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উক্ত সভ্যতা বিকাশে তথা মিশরীয় সভ্যতার বিকাশে নদীর অবদান অপরিসীম। মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীলনদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, নীলনদকে কেন্দ্র করে কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশুপালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে নীলনদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। দেখা যায়, প্রতি বছর গ্রীষ্মশান্সের শুরুতে আফ্রিকার মধ্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট প্লাবনে নীলনদের দুর্বৃণ ছাপিয়ে যেত। এ সময় পাহাড়ি মাটি, বরফগলা পানি ও অজস্র জলজ উদ্ভিদ আবাদি জমিতে এসে পড়ত। কয়েক মাসব্যাপী স্থায়ী (জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত) এ বন্যার সময় গাছ-গাছড়া পচে গিয়ে এবং এর সাথে জলধারায় পাহাড়ি লাল পাথুরে মাটি মিশে এক উর্বর পলিমাটির সৃষ্টি হতো। প্লাবন শেষে বন্যার উর্বর পলিমাটিতে নীলনদের উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল এবং প্রস্থে ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যেত। এ কারণে মিসরের জমি খুব উর্বর হতো। এ উর্বর জমিতে খুব সহজেই ফসল ফলানো যেত। কৃষি উৎপাদনই প্রাচীন মিসরীয়দের প্রধান জীবিকা হওয়ায় এ সময় কৃষিকে কেন্দ্র করেই বসতি স্থাপন, বাঁধ নির্মাণ কৌশল, সেচব্যবস্থা ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটে। এছাড়া নীলনদের তীরে অবস্থিত সিনাই পাহাড় ও অন্যান্য পর্বতমালা এবং চুনা পাথরের পাহাড়গুলো শিল্পদ্রব্য ও অস্ত্র-শস্ত্র তেরি করার জন্য মিসরবাসীকে বিভিন্ন প্রকার ধাতু সরবরাহ করেছে। এক কথায়, গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান ও নীলনদের দানের ফলে মিসরে বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতার উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে। তাই গ্রিক ঐতিহাসিক ও ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা দেখে বিস্মিত হয়ে নির্দ্বিধায় মিসরকে 'নীলনদের দান' বা 'The Gift of the Nile [গণিত] বলে উল্লেখ করেছেন।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
উক্ত সভ্যতার বিকাশে নদীর অবদান উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপক
সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর