উদ্দীপকে উল্লিখিত নদীর সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার কোন নদীর সাদৃশ্য হতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত নদীর সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের সাদৃশ্য হতে পারে।প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মনের কালজয়ী তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানুষের উপর এ নদীর প্রভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উক্ত অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, জীবনযাপন পদ্ধতি, ঘর-বাড়ি নির্মাণ, যোগাযোগ, স্থাপত্য-ভাষ্কর্য সব কিছুতে তিতাস নদীর প্রভাব বিদ্যমান। অনুরূপ অবস্থা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়ও লক্ষ করা যায়। মূলত নীলনদকে ঘিরেই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার উন্মেষ হয় এবং নীলনদের উপকূলীয় অঞ্চলেই প্রথম কৃষির সূচনা হয়। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের শুরুতে আফ্রিকার মধ্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট প্লাবনে নীলনদের দুকূল ছাপিয়ে যেত। এসময় পাহাড়ি মাটি, বরফগলা পানি ও অজস্র জলজ উদ্ভিদ আবাদি জমিতে এসে পড়ত। ৪ মাস স্থায়ী এ বন্যার সময় গাছ-গাছড়া পচে গিয়ে এবং এর সাথে জলধারায় পাহাড়ি লাল পাথুরে মাটি মিশে এক উর্বর পলিমাটির সৃষ্টি হতো। প্লাবন শেষে বন্যার উর্বর পলিমাটিতে নীলনদের উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল এবং প্রস্থে ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যেত। এরূপে সঞ্চিত পলিমাটির গুণে উভয় ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হয়। ফলে প্রচুর শস্য, তুলা প্রভৃতি উৎপন্ন হওয়ায় মিশর একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হয়েছে। নীলনদের তীরে সিনাই পাহাড় ও অন্যান্য পর্বতমালা এবং চুনা পাথরের পাহাড়গুলো বিদ্যমান থাকায় শিল্পদ্রব্য ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার জন্য মিশরবাসীকে বিভিন্ন প্রকার ধাতু সরবরাহ করেছে। মিশরের সমৃদ্ধি, আড়ম্বর ও প্রগতি এসব দ্রব্যসামগ্রী এবং উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধার জন্য সম্ভব হয়েছে।এককথায়, গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও নীলনদের দানের ফলে মিশরেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সভ্যতার উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে।অতএব উদ্দীপকের নদীর মাধ্যমে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের ভূমিকা ফুটে উঠেছে।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত নদীর সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার কোন নদীর সাদৃশ্য…
উদ্দীপক
ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর