পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাংবিধানিক চুক্তির ভূমিকা নির্ণয় কর।
উত্তর: পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ চুক্তি তথা মদিনা সনদ অনন্য ভূমিকা পালন করে।উদ্দীপকের সাংবিধানিক চুক্তির সাথে মহানবি (সা.)-এর মদিনা সনদের সাদৃশ্য লক্ষণীয়। মানবাধিকার সনদের মাধ্যমে যেমন প্রতিটি মানুষের অধিকার ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে প্রদান করা হয়। তেমনি মদিনা সনদের মাধ্যমে সকল ধর্মের মানুষকে সমান মর্যাদা দেওয়া হয় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহানুভূতির সমাজ গঠন করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে মদিনা সনদ ছিল সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। মদিনায় মহানবি (সা.)-এর হিজরতের পূর্বে কেন্দ্রীয় কোনো সংগঠন ছিল না। সে কারণে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ৬২২ সালে ৪৭টি ধারা সংবলিত মদিনা সনদ প্রণয়ন করে মদিনাকে সুখী সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের মধ্যে সহাবস্থান ও পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা অপরিহার্য। মদিনায় বসবাসরত ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকরা অন্তঃকলহে ক্ষিপ্ত ছিল। বিশেষ করে আউস ও খাযরাজ গোত্রের কলহ সর্বজনবিদিত। তাই মহানবি (সা.) মদিনার সনদ প্রণয়ন করে সকল সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে আইনের দ্বারা সহাবস্থান ও পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন। এ সনদের মাধ্যমে মহানবি (সা.) শতধাবিভক্ত ও আত্মকলহে লিপ্ত মদিনাবাসীর মধ্যে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটান। ফলে সমাজে অনাবিল শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। মদিনা সনদ বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদে বিশ্বাসী গোত্র এবং বেদুইন আরবদেরকে একটি সুসংহত জাতিতে পরিণত করে। মহানবি (সা.) মদিনা সনদের মাধ্যমে মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠন করেন। মদিনা সনদ ছিল ভ্রাতৃত্বের ও ঐক্যের সেতুবন্ধ- যা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-দলমত নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে গ্রন্থিত করেছিল। তাই এটি ছিল পারস্পরিক সহাবস্থানের দলিলের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
HSC Islamic History 1st paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 1st paper · সৃজনশীল
পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাংবিধানি…
উদ্দীপক
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর