উদ্দীপকে রাফসান ও মারুফ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। রাফসান ব্যাংকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অন্যদিকে মারুফ DNA ডেটা বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণের জন্য বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই দুটি প্রযুক্তির মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-বায়োমেট্রিক্স হলো মূলত এমন একটি প্রযুক্তি যা মানুষের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন- DNA, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের রেটিনা বা কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে কারো পরিচয় যাচাই করে। এটি মূলত দুই ধাপে কাজ করে। তথ্য সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী তা মিলিয়ে দেখা। সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য এই প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া এই প্রযুক্তিটি খুব বেশি ব্যায়বহুল না হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার আজকাল খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।অন্যদিকে বায়োইনফরমেটিক্স হলো ফলিত গণিত, তথ্য বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রসায়নের একটি সমন্বিত রূপ যা জীববিজ্ঞানের জটিল সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করে। এটি বায়োলজিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ করার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি, ইনফরমেশন থিওরি এবং গাণিতিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে। মলিকুলার জেনেটিক্সের ভিজ্যুয়ালাইজেশনে এই প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া বিপুল পরিমাণ পুনরাবৃত্তিমূলক বা অপুনরাবৃত্তিমূলক তথ্যের বিশ্লেষণে এই প্রযুক্তি অপরিহার্য। প্যাটার্ন রিকগনিশন ও অ্যালগরিদমিক ডেটা মাইনিং এর কাজে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহার করা হয়। তবে এই প্রযুক্তিটি জটিল হওয়ার কারণে বায়োমেট্রিক্সের তুলনায় অনেক ব্যায়বহুল।সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি যেখানে পরিচয় শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত হয়, সেখানে বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তি জৈবিক তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ এরা উভয়েই সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি প্রযুক্তি।