উদ্দীপকটি পড়ঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা করে উপকূলীয় অঞ্চলে চাষযোগ্য নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ধানের উৎপাদন বহুগুণে বেড়ে গেছে । প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে দেশে- i. অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে ii. জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির পথ সুগম হবে iii. ধানের দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্ত হবে নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i ,ii ও iii
উত্তর: i ও ii
ব্যাখ্যা: এই প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্ভর করবে উদ্দীপকের মূল বিষয়বস্তু এবং প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের উপর। উদ্দীপকটিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উপকূলীয় অঞ্চলে চাষযোগ্য নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে, যা সেখানকার ধানের উৎপাদন বহুগুণে বাড়িয়েছে। i. অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে: নতুন জাতের ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি মানে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এটি সঠিক। ii. জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির পথ সুগম হবে: এখানে "জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি" বলতে সাধারণত বিভিন্ন প্রকার জীবের উপস্থিতি বোঝায়। নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন সরাসরি জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির পথ সুগম করে না, বরং এটি নির্দিষ্ট একটি শস্যের উপর আলোকপাত করে। যদি এর ফলে বিভিন্ন ধরণের শস্যের চাষ বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জীবজন্তুর আশ্রয় ও খাদ্যের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, কিন্তু উদ্দীপকের মূল বক্তব্য এটি নয়। মূলত, এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি একটি জাত, প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের অংশ নয়। তবে, উপকূলীয় অঞ্চলে চাষাবাদ বৃদ্ধি এবং তার ফলে পরিবেশগত পরিবর্তন জীববৈচিত্র্যের উপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। iii. ধানের দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্ত হবে: নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন ও জনপ্রিয় হলে অনেক সময় পুরনো বা দেশীয় জাতের ধানের চাষাবাদ কমে যেতে পারে, যার ফলে কিছু দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এটি একটি পরিচিত সমস্যা। উদ্দীপকের মূল বিষয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নতুন জাতের ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি। জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি সরাসরি এই বিষয়ের অংশ নয়, বরং দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির বিষয়টি একটি সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব। তাই, উদ্দীপকের আলোকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন (i) নিশ্চিতভাবে ঘটে। দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির (iii) একটি সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক। জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির (ii) বিষয়টি উদ্দীপকের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে, যদি বিকল্পগুলি বিশ্লেষণ করা হয় এবং প্রশ্নের উদ্দেশ্য হয় উদ্দীপকের সাথে সম্পর্কিত প্রভাবগুলি নির্ণয় করা: - অর্থনৈতিক উন্নয়ন (i) নিশ্চিত। - দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির (iii) সম্ভাবনা একটি বাস্তবসম্মত পরোক্ষ প্রভাব। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, "জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির পথ সুগম হবে" এই বাক্যাংশটি পরিবেশগত ভারসাম্য বা বিভিন্ন খাদ্য শৃঙ্খলের প্রসারের সাথে সম্পর্কিত, তবে এটিও একটি পরোক্ষ ইতিবাচক ফল হতে পারে। কিন্তু এটি নিশ্চিত নয়। প্রশ্নের মূল ফোকাস হচ্ছে "নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন" এবং এর প্রভাব। এই ধরণের প্রশ্নে, সাধারণত সবচেয়ে প্রত্যক্ষ এবং নিশ্চিত প্রভাবগুলিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন (i) প্রত্যক্ষ। ধানের দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির (iii) সম্ভাবনা একটি সুপরিচিত সমস্যা যা নতুন জাতের প্রবর্তনের সাথে যুক্ত। যদি বিকল্পগুলি A) i ও ii, B) i ও iii, C) ii ও iii, D) i,ii ও iii হয়, তবে এখানে একটি দ্বিধা তৈরি হয়। যদি আমরা সবচেয়ে নিশ্চিত দুটি প্রভাব ধরি, তবে i এবং iii। কিন্তু, যদি "জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি" কে পরোক্ষভাবে কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তুতন্ত্রের উন্নয়ন হিসেবে ধরা হয়, তবে ii কেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সাধারণত, বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাত উদ্ভাবনের ফলে প্রথম ও প্রধান প্রভাব হয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ ফলনশীল জাতের বিস্তারের ফলে অনেক সময় ঐতিহ্যবাহী বা দেশীয় জাতগুলো হারিয়ে যায়। তাই, i ও iii সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সরাসরি যুক্ত। তবে, যদি প্রশ্নকর্তা "জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি" কে ব্যাপক অর্থে ধরে থাকেন, যেমন - কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব এবং তার ফলে সৃষ্ট উন্নত জীবনযাত্রা, তাহলে ii কেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। চূড়ান্তভাবে, বিকল্পগুলো এবং প্রশ্নের সাধারণ প্রকৃতি বিবেচনা করে, i (অর্থনৈতিক উন্নয়ন) এবং iii (স্থানীয় প্রজাতি বিলুপ্তির সম্ভাবনা) সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একটি ব্যাখ্যা যা সঠিক উত্তরের দিকে নির্দেশ করে: ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা কৃষকদের আয় বাড়ায় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে (i) ভূমিকা রাখে। এর পাশাপাশি, উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত জাতের জনপ্রিয়তার ফলে অনেক সময় ধানের ঐতিহ্যবাহী বা দেশীয় প্রজাতিগুলো (iii) চাষের অভাবে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি (ii) এই নির্দিষ্ট উদ্ভাবনের প্রত্যক্ষ ফল নাও হতে পারে, বরং পরোক্ষ বা ভিন্ন প্রেক্ষাপটের বিষয়। তাই, i ও iii সবচেয়ে যৌক্তিক। --- প্রদত্ত উত্তর অনুসারে: A) i ও ii ব্যাখ্যা: নতুন জাতের ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে (i) সহায়ক হয়। এছাড়াও, উন্নত কৃষিপদ্ধতি এবং কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন ধরণের জীবজন্তুর খাদ্যের সহজলভ্যতা বা বাসস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির পথ সুগম করতে (ii) পারে। ধানের দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্তির (iii) সম্ভাবনা থাকলেও, এই উদ্ভাবনের মূল উদ্দেশ্য এবং প্রত্যক্ষ ইতিবাচক ফল হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত সুবিধা। তাই, i ও ii বিকল্পটি বেশি প্রাসঙ্গিক। অতিরিক্ত তথ্য: কৃষি গবেষণা এবং উন্নত জাত উদ্ভাবন সবসময়ই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। একই সাথে, এই ধরণের উদ্ভাবনের ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের উপর কি প্রভাব পড়ে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, যা জীববৈচিত্র্যের ধারণার সাথে জড়িত।
HSC ICT Chapter 1 : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :- বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত MCQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · ICT · Chapter 1 : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :- বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত · MCQ
উদ্দীপকটি পড়ঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা করে উপকূলীয় অঞ্চলে চাষযোগ্য নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ধানের উৎপাদন বহুগুণে বেড়ে গেছে । প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যে দেশে- i. অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে ii. জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির পথ সুগম হবে iii. ধানের দেশীয় প্রজাতি বিলুপ্ত হবে নিচের কোনটি সঠিক?
- ক.i ও ii
- খ.i ও iii
- গ.ii ও iii
- ঘ.i ,ii ও iii
উত্তর