উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর ।
উত্তর: উপসর্গ: যেসব সুনির্দিষ্ট বর্ণ বা বর্ণের সমষ্টি ধাতু ও শব্দের আগে বসে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ কিংবা সংকোচন ঘটায়, তদের বলা হয় উপসর্গ। যেমন: প্র, পরা, পরি, নির ইত্যাদি। উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা: শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়: উপসর্গের মাধ্যমে যেহেতু নতুন নতুন শব্দ সৃষ্টি হয়, ফলে ভাষার শব্দসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ভাষার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। ব্যঞ্জনা বাড়ে: উপসর্গের ব্যবহারে শব্দের ভাব-ব্যঞ্জনা অনেক গুণ বেড়ে যায়। যেমন: 'জয়' বললে শব্দটির যতটা ভাব প্রকাশিত হয়, পক্ষান্তরে 'বিজয়' বললে শব্দটির আবেদন অনেকটাই বেড়ে যায়। প্রকাশক্ষমতা বাড়ে: উপসর্গের ব্যবহারে ভাষার প্রকাশক্ষমতা বেড়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্ভবত এ কারণেই উপসর্গের তুলনা করেছেন মাছের পাখনার সঙ্গে। কারণ, পাখনার সাহায্যে মাছ যেমন ডান-বাঁয়ে বা সামনে-পেছনে চলার জন্য বিশেষ গতি লাভ করে; ঠিক তেমনি উপসর্গের মাধ্যমে শব্দ তার ব্যবহারিক ক্ষেত্রের বিস্তৃতি ঘটিয়ে থাকে। অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে: নির্দিষ্ট কোনো শব্দের আগে উপসর্গ যোগ করলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শব্দটির অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে। ফলে শব্দটির প্রচলিত অর্থের আবেদনে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা। যেমন: 'তাপ' থেকে হয় 'প্রতাপ' কিংবা পরিতাপ ইত্যাদি। পরিভাষা সৃষ্টিতে: অনেক সময় উপসর্গের মাধ্যমে পরিভাষাও প্রণয়ন করা হয়। যেমন: Conductor-পরিবাহী, Requisition-অধিগ্রহণ ইত্যাদি উপসর্গের উপযুক্ত গুণাবলি বিবেচনা করে অনেক বৈয়াকরণিক মনে করেন, 'উপসর্গ কেবল প্রয়োজনীয় নয়, ভাষার পক্ষে পরিহার্য।'
HSC Bangla 2nd Paper বাংলা শব্দ গঠন (উপসর্গ, প্রত্যয়, সমাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · বাংলা শব্দ গঠন (উপসর্গ, প্রত্যয়, সমাস) · সৃজনশীল
উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর ।
উত্তর