উদাহরণসহ সর্বনাম পদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উত্তর: বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ বা পদ ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম বলে। সর্বনাম বহুলাংশে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ্যের মতোই কারক ও বচনভেদে তার রূপেও ভিন্নতা দেখা যায়। সর্বনামকে সাধারণত নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়: ক. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম কোনো ব্যক্তিকে বোঝায় তাকে ব্যক্তিবাচক সর্বনাম বলে। এ সর্বনাম বাক্যের ব্যাকরণিক পক্ষ - বা পুরুষ (বক্তা, শ্রোতা, অন্য-এ তিনটিকে) নির্দেশ করে। যেমন: আমি, তুমি, উনি ইত্যাদি। খ. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে-এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে আত্মবাচক সর্বনাম বলে। যেমন: আমি নিজে বইটি পড়েছি। গ. নির্দেশক সর্বনাম: এ ধরনের সর্বনাম বক্তার কাছে থেকে কোনোকিছুর নৈকট্য, দুরত্ব নির্দেশ করে। যেমন: এ, এরা, উনি, সে ইত্যাদি। ঘ. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট কাউকে বা কোনো বস্তুকে বোঝাতে অনির্দিষ্ট সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: কেউ বোধ হয় এসেছিল। ঙ. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্ন বোঝানোর জন্য যে লেখা পরোক্ষ প্রশ্ন বোঝানোর জন্য যে আর সবনাম ব্যবহৃত হয় তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে। যেমন: এটা কার বই? চ. সংযোগবাচক সর্বনাম: এ ধরনের সর্বনাম দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায়। যেমন: আমি বলি কি জীবনটা এভাবে ধ্বংস করো না? কলেজে গিয়ে দেখি যে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। ছ. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল যে যুগল সর্বনাম দুটি বাক্যাংশের সংযোগ ঘটায় তাকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন: যত চাও তত লও। জ. ব্যতিহার সর্বনাম: যে সর্বনাম দুপক্ষের সহযোগ বা পারস্পরিক নির্ভরতা বোঝায় তাকে ব্যতিহার সর্বনাম বলে। যেমন: আমরা নিজেরা নিজেরা বাড়িটা মেরামত করে ফেললাম। ঝ. সাকল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝায়। যেমন: সবাই বই পড়ছে। ঞ. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্যে পারলে তুমি পারবে না কেন?
HSC Bangla 2nd Paper বাংলা ভাষার ব্যকরণিক শব্দশ্রেণি CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · বাংলা ভাষার ব্যকরণিক শব্দশ্রেণি · সৃজনশীল
উদাহরণসহ সর্বনাম পদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উত্তর