উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উত্তর: যে শব্দশ্রেণি দ্বারা কোনোকিছু করা, থাকা, হওয়া, ঘটা ইত্যাদি বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে। যেমন: বাগানে ফুল ফুটেছে। ক্রিয়ার নানা রকম শ্রেণিবিভাগ হয়ে থাকে। এগুলো নিম্নরূপ: ক. ভাব প্রকাশের সম্পূর্ণতা অনুসারে ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ: i. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের ভাবের পরিসমাপ্তি ঘটে তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ছেলেটা বল খেলছে। ii. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের ভাবের পরিসমাপ্তি ঘটে না তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: বাড়ি গিয়ে ভাত খাব। খ. কর্মপদ সংক্রান্ত ভূমিকা অনুসারে শ্রেণিবিভাগ : i. সকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া কর্মপদযুক্ত তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: লোকটি গান শুনছে। ii. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের অন্তর্গত যে ক্রিয়া কোনো কর্ম গ্রহণ করে না তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: সজীব খেলছে। iii. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যস্থিত যে ক্রিয়া দুটি কর্ম গ্রহণ করে * তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: আমি মিতাকে একটি ফুল দিয়েছি। iv. প্রযোজক ক্রিয়া: কর্তার যে ক্রিয়া অন্যকে দিয়ে করানো বোঝায় তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে অংক দেখাচ্ছেন। গ. গঠন-বৈশিষ্ট্য অনুসারে শ্রেণিবিভাগ : i. যৌগিক ক্রিয়া: এ ধরনের ক্রিয়া একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যোগে গঠিত হয় এবং সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: এসে বসা, খেয়ে যাওয়া, দৌড়াতে থাকা ইত্যাদি। ii. সংযোগমূলক বা মিশ্র ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধনাত্মক শব্দের সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যোগ করে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে সংযোগমূলক বা মিশ্র ক্রিয়া বলে। যেমন; নাচ করা, মশা মারা ইত্যাদি। ঘ. অস্তি-নেতি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: i. অস্তিবাচক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-বোধক অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অস্তিবাচক ক্রিয়া বলে। যেমন: আমি খাব ৷ ii. নেতিবাচক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা নেতিবাচক বা না-বোধক অর্থ প্রকাশ পায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়া বলে। যেমন: আমি খাইনি।
HSC Bangla 2nd Paper বাংলা ভাষার ব্যকরণিক শব্দশ্রেণি CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · বাংলা ভাষার ব্যকরণিক শব্দশ্রেণি · সৃজনশীল
উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উত্তর