উদাহরণসহ সর্বনাম পদের শ্রেণিবিন্যাস আলোচনা করো ।
উত্তর: নিম্নে সর্বনামের শ্রেণিবিন্যাস উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো- ক. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: বাক্যের ব্যকরণিক পুরুষ নির্দেশ করে। যেমন- আমি বই পড়ি। সে ফুটবল খেলে। তুমি কলেজে যাবে। খ. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোন কাজ করেছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- তিনি স্বয়ং আমাকে দেখতে আসবেন। খোদ মন্ত্রীই যদি পুলিশের প্রতি ভরসা হারান, তবে জনগন আর যাবে কোথায়। আমি নিজে তোমায় পড়াব। গ. নির্দেশক সর্বনাম: বক্তার কাছ থেকে কোন কিছুর নৈকট্য, দূরত্ব নির্দেশ করে। যেমন: এ আমার পোষা বিড়াল। এরা আমার বন্ধু। উনি আমার ভাই। ঘ. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কোন কিছুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: কোন এক স্টেশনে ট্রেন থামল। এখানে হয়ত কিছু খাবার পাব। কেউ কোথাও আছে বলে মনে হয় না। ঙ. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্ন তৈরির জন্য বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: কে এল এমন অসময়? এখানে যারা এসেছে তারা কারা? কার এমন সাধ্য যে সে পাহাড় নাড়ায়? চ. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে সর্বনাম দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটায়। যেমন: এখানে এসে দেখি যে, বাসটি চলে গেছে। আমি বলি কী, তুমি নাহয় থেকেই যাও। ছ. সাপেক্ষ সর্বনাম: একে অন্যের উপর নির্ভরশীল যুগল সর্বনাম। যা দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটায়। যেমন: যা ভেবেছিলাম তাই হয়েছে। যে এসেছে সে পেয়েছে। যেমন কর্ম তেমন ফল। জ. পারস্পারিক সর্বনাম: দুপক্ষের সহযোগ বা পারস্পারিক নির্ভরতা বোঝায়। যেমন: কাজটি আপনা-আপনি হয়ে গেল। ওরা পরস্পর বন্ধু। তারা নিজে নিজে সমস্যাটি মিটিয়েছে। ঝ. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝায়। যেমন এখানকার সব মানুষ ভাল। সকলেই ভাল থাকতে চায়। তাবৎ গ্রাম ঘুরে একটিও পান পেলাম না। ঞ. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: এ তো নিজ দেশ নয় অন্য দেশ। গুণ দেখ অপরের, নিজের দেখ দোষ। কথায় বলে, পর কখনো আপন হয় না।
HSC Bangla 2nd Paper বাংলা বানানের নিয়ম CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · বাংলা বানানের নিয়ম · সৃজনশীল
উদাহরণসহ সর্বনাম পদের শ্রেণিবিন্যাস আলোচনা করো ।
উত্তর